শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্রকাশনা মাধ্যম, চিকিৎসকদের দ্বারা পর্যালোচিত
মনের জানালা

আবুডারে ইচ্ছে করে বুকের দুধ দেয় না

ফিডার ও ফর্মুলা দুধ: সমাজের ভুল ধারণা বনাম একজন মায়ের বাস্তব সংগ্রাম

লিখেছেন Mehurma Admin২ মিনিটপ্রকাশ ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চিকিৎসাগতভাবে পর্যালোচিতএই লেখা প্রকাশের আগে একজন স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ দ্বারা পর্যালোচিত হয়েছে।

ফিডার ও ফর্মুলা দুধ: সমাজের ভুল ধারণা বনাম একজন মায়ের বাস্তব সংগ্রাম

বাচ্চাকে কি তার মা ইচ্ছা করে বুকের দুধ দেয় না ফিগার ঠিক রাখার জন্য? আমাদের সমাজে অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন আসে, কিংবা সমাজ ধরেই নেয় যে মায়েরা ইচ্ছে করেই বুঝি এমনটা করেন। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে কি তা মোটেও সত্য বলে মনে হয়?

আমাদের সমাজের একটা বিরাট অংশ মনে করে, মায়েরা নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য বা ফিগার ঠিক রাখার জন্য সন্তানকে বুকের দুধ দিতে চান না। অথচ বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন নারী যখন মা হন, তখন গরম্নভস্থতা এবং প্রসবের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াজুড়ে তাঁর শারীরিক গঠনে এমনিতেই পরিবর্তন আসে। এর সাথে বুকের দুধ খাওয়ানোর কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া, যে মা নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁর জন্য সন্তানের সাথে বন্ধন আরও গভীর হয় এবং বাড়তি কোনো ঝক্কিও থাকে না।

মাঝরাতের ক্লান্তি আর ফিডারের কষ্ট

রাত্রিবেলা একজন মায়ের সংগ্রাম কেমন হয়, তা কেবল সেই মাই জানে যিনি ফিডার বা ফর্মুলা দিয়ে সন্তান লালন করেন। রাত দুইটা বাজে ঘুম ভেঙে বাচ্চার জন্য পানি গরম করা, ফিডার ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা এবং দুধ তৈরি করা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অথচ বাচ্চা বুকের দুধ খেলে মাঝরাতে মাকে এতটা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হতো না; তিনি সহজেই বাচ্চাকে কাছে নিয়ে শুয়ে পড়তে পারতেন।

কেন ফর্মুলা দুধ দিতে বাধ্য হন মায়েরা?

কোনো মা-ই চান না তাঁর সন্তান পুষ্টি বা স্বাস্থ্য থেকে বঞ্চিত হোক। প্রতিটি মা জানেন যে বুকের দুধই শিশুর জন্য সবচেয়ে সেরা ও পুষ্টিকর। কিন্তু আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং সিজারের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে অনেক সময় মায়ের বুকের দুধ প্রাকৃতিকভাবে কমে যায় বা শুকিয়ে যায়। বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ না পেলে তখন বাধ্য হয়েই ফর্মুলা দুধের ওপর নির্ভর করতে হয়।

আর এই ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো কি খুব সহজ কোনো বিষয়? মোটেও না! ফর্মুলা দুধ মেইনটেইন করতে গিয়ে বাবা-মাকে কী পরিমাণ আর্থিক খরচ এবং সময় ব্যয় করতে হয়, তা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই জানে। এর পাশাপাশি, ফর্মুলা দুধের কারণে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কিছু ভিত্তিহীন ট্যাবু ও সামাজিক ভুল ধারণা

আমাদের সমাজে আরও কিছু অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে; অনেকেই মনে করেন মায়ের দুধ খাওয়ালে নাকি বাচ্চার স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়! এই সমস্ত মিথ এবং সামাজিক ট্যাবু মিলিয়েই মায়েদের বিনা কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু সত্য হলো, ৯০ শতাংশ মা-ই চান তাঁদের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে। কেউ শখ করে বা ইচ্ছা করে ফর্মুলা বেছে নেন না, পরিস্থিতির শিকার হয়েই তা দিতে বাধ্য হন।

অনেকে আবার প্রশ্ন তোলেন—"অতীতে কি এমন হতো না?" এর উত্তর হলো, অতীতের জীবনধারা আর বর্তমানের যান্ত্রিক জীবন এক নয়। অতীতেও তো মায়েরা বুকের দুধ না পেলে গরুর দুধ, চালের গুঁড়ো, আটা বা বার্লি খাওয়াতেন। পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, আগের দিনে এসব ঘরের ভেতরের কথা বাইরে জানাজানি হতো না, আর এখনকার তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সবকিছু চোখের সামনে চলে আসে।

তাই মায়েদের ওপর অদৃশ্য এই মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে, তাঁদের এই নীরব লড়াইকে সম্মান জানানো এবং পাশে দাঁড়ানো আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব।

মন্তব্য ও পর্যালোচনা

০টি মন্তব্য
আপনার রেটিং

এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মতামতটি আপনার হতে পারে।